
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সাগরের বড় বড় ঢেউ আর পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ। শুক্রবার সকালে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। শিশুদের উচ্ছ্বাস, পরিবার নিয়ে পর্যটকদের আনন্দ আর বালুচরে মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত।
সকাল থেকেই পর্যটকদের পদচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে সৈকত এলাকা। কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন, কেউ আবার প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত সময় কাটান। পরিবার নিয়ে আসা পর্যটকদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। সমুদ্রস্নান, ঢেউয়ের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ এবং ঘোড়ার পিঠে চড়ে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটান তারা।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ফরিদুল ইসলাম বলেন, অফিসের ১০ জন সহকর্মী নিয়ে তারা কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছেন। সৈকতের পরিবেশ এবং মানুষের আনন্দ দেখে তাদের ভ্রমণ আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।
তবে পর্যটকদের আনন্দের পাশাপাশি সৈকতে রয়েছে নিরাপত্তাঝুঁকিও। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বালিয়াড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অনেক পর্যটক তা উপেক্ষা করে সাগরে নামছেন। দুর্ঘটনা এড়াতে সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থার কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।
এদিকে পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে সৈকতপাড়ের দোকানপাট। বাড়তি ব্যস্ততা দেখা গেছে ঘোড়াওয়ালা, বিচ বাইক ও জেট স্কি চালকদের মধ্যেও। পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনায় এসব খাতের ব্যবসায়ীদের কর্মচাঞ্চল্য ও আয়-রোজগার বেড়েছে।
সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকদের অনেকে কক্সবাজারের নিকটবর্তী দীর্ঘ প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন বিনোদন স্পটেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সব মিলিয়ে ছুটির আমেজে পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।